আপনার জীবনে দেখা সেরা দশটি হিন্দি চলচ্চিত্রের নাম বলবেন কি? কেন সেরা বলছেন তার কারণটা কি বলবেন?

 

আপনার জীবনে দেখা সেরা দশটি হিন্দি চলচ্চিত্রের নাম বলবেন কি? কেন সেরা বলছেন তার কারণটা কি বলবেন?

১) থ্রি ইডিয়টস: বলিউডে আমার দেখা সেরা চলচ্চিত্র।এতো বছর পরও যে মুভির জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি, যেভাবে মানুষের মুখে মুখে এই মুভির চর্চা হয়েছে বা এখনো হয়, সিনেমা প্রেমীদের মনে এই মুভি যেভাবে জায়গা করে নিয়েছে খুব কম মুভি দ্বারাই আসলে এগুলো সম্ভব হয়। থ্রি ইডিয়টসের কাহিনী এমন একটি বিষয় নিয়ে নির্মিত যা সবাই উপলব্ধি করতে পারে। সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের এত ভালোবাসার এটাই প্রধান কারণ। আমার এই ছবিতে সবচাইতে বেশি ভালো লেগেছে বোমান ইরানিকে। তার ভাইরাস চরিত্রটি অসাধারণ ছিল। স্টোয়িক ডায়লগ 'অল ইজ ওয়েল' এখনো আমি নিজেকে নিজে বলি। আমির খান, সারমান যোশি, মাধবন, কারিনা কাপুর সবাই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন।

২) স্বদেশ: শাহরুখ খান অভিনীত অনন্য অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র হল স্বদেশ। শাহরুখ খান তার নির্দিষ্ট রোমান্টিক ক্যারেক্টার থেকে বের হয়ে একদম আলাদা নতুনরূপে ফেরত আসেন এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ছবিতে তাঁকে একজন নাসার বিজ্ঞানী হিসেবে দেখা যায় তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে ফিরে এসে মানুষের সেবায় নিযুক্ত হন। এই চলচ্চিত্রটি অনেক মানুষকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কিছু করার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ।এই চলচ্চিত্রের আমার প্রিয় দৃশ্য হচ্ছে শাহরুখ খান ট্রেনে ওঠার পরে এক বাচ্চা শিশু তার কাছে পানি বিক্রি করতে আসে। সেই দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। যারা এখনো ছবিটি দেখেন নি দয়া করে ছবিটি একবার হলেও দেখবেন আমার অনুরোধ।

৩) গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর: গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর বলিউডের কাল্ট ক্লাসিক মুভি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সব মহারথীরা। রাজকুমার রাও, মনোজ বাজপাই, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, দিকমানসু ধুলিয়া এর মত অভিনেতারা। ছবিটাতে দেখানো হয়েছে প্রভাব বিস্তার কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের খুনের খেলা। পাঠান আর কুরেশির দুই পরিবারের মাঝে শত্রুতা খুব ভালো ভাবে দেখানো হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। ছবির গানগুলো ছিল অসাধারণ। ডায়লগ গুলো মানুষের আজীবন মনে থাকবে। একশন গুলো ছিল অনেক বাস্তব সম্মত। অনুরাগ কাশ্যপ বরাবরই প্রমাণ করে যান তার চলচ্চিত্রে তিনি কেন ভারতের সেরা পরিচালক। চলচ্চিত্রটি হতে পারে ভারতের "গডফাদার"।

৪) রং দে বাসন্তী: রং দে বাসন্তী আমির খান অভিনীত একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র। রং দে বাসন্তী সিনেমায় রাজনীতি, ইতিহাস, বন্ধুত্ব, কমেডি সবই আছে। কিন্তু যেটা সবকিছু ছাপিয়ে উঠেছে সেটা হলো তারুণ্যের জয়গান। হাসতে হাসতে জীবন দিতে প্রস্তুত এই পাঁচ তরুণের গল্পের মাধ্যমে ভারতের তরুণেরা আবার নতুন করে জেগে ওঠে।

৫) অন্ধাধুন: যে কোনও রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজন আলো। অন্ধকারে পরতে পরতে গভীরতা থাকলেও তার মধ্যে কিছু কিছু খোজ করা কঠিন। শ্রীরাম রাঘবনের ছবি 'অন্ধাধুন' আলো-অন্ধকারের খেলায় এক অদ্ভুত রহস্য উন্মোচন করেছে। যে রহস্যের পরতে পরতে রয়েছে রক্তাক্ত পর্ব। কখনও মানসিক ক্ষত, কখনওবা শারীরিক ক্ষত। ভারতের নিকট অতীতে সবচাইতে ভালোলাগার চলচ্চিত্র এটি। আয়ুষ্মান খুরানা অত্যন্ত দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। অন্ধের অভিনয় নাকি সত্যিই অন্ধ জানতে হলে অবশ্যই দেখা হবে অন্ধাধুন।

৬) হায়দার: এটি ছিল বিশাল ভারতওয়াজের শেক্সপিয়ার এডাপটেশন। শাহিদ কাপুরের দুর্দান্ত অভিনয় শৈলী ফুটে উঠেছে এই চলচ্চিত্রে। কাশ্মীরের মানুষের সমস্যার সমাধান সব নিয়ে জমে উঠেছে চলচ্চিত্রটি। গানগুলো ছিল অসাধারণ বিশেষ করে বিসমিল গানটা এখনো আমি শুনি। একটি বিশেষ দৃশ্য আমি মনে করি সবারই দেখা উচিত সেটি চুজপা। সেই দৃশ্যটি অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন শাহিদ কাপুর। পরকীয়া, পারিবারিক বৈষম্য, নিষিদ্ধ প্রেম, জঙ্গি হামলা সবকিছু ছিল এই চলচ্চিত্রে।

৭) তামাশা: a must watch masterpiece! এই মুভিটি অন্যান্য ছবির মত ব্যবসাসফল হয়নি কিন্তু এটি একটি কাল্ট ক্লাসিক হয়ে উঠেছে‌। গল্পটি আপনাকে শুধু বিনোদনই দেয় না, আমাদের অবস্থা সম্পর্কেও ভাবতে বাধ্য করে। এর চিত্রনাট্য এক কথায় অসাধারণ। ইমতিয়াজ আলীকে অভিনন্দন জানাই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য। রণবীর এবং দীপিকা দুজন দুর্দান্ত ছিলেন। মুভির বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরো মানুষ এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি ব্যক্তির এটির নিজস্ব অর্থ রয়েছে, সেই অর্থ বুঝতে বুঝতে চলচ্চিত্রটি অবশ্যই দেখার প্রয়োজন । আশা করি একদিন লোকেরা এই মুভিটির গভীর অর্থ বুঝতে পারবে এবং ভবিষ্যতে এটির অনেক প্রশংসা করবে। সিনেমার মতই এর মিউজিকও খুব গভীর, সমৃদ্ধ এবং সবার কাছে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের । এ আর রহমান!!

৮)কাপুর এন্ড সন্স: আমার দেখা বলিউডের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র। অনেকেই হয়তো দ্বিমত করতে পারবেন। কিন্তু এই ছবির পরিচালক ও কাহিনীকারের মুন্সিয়ানায় চলচ্চিত্রটি এক অন্য লেভেলে চলে গেছে। আমার সবচাইতে পছন্দের চরিত্রটি ছিল ফাওয়াদ খানের। পারিবারিক সমস্যা এত সুন্দর ভাবে চিত্রায়িত মনে হয় আর কোন চলচ্চিত্রে হয়নি। ফাওয়াদ, সিদ্ধার্থ, আলিয়া সবাই অনবদ্য অভিনয় করেছেন।

৯) পান সিং তোমার: পান সিং তোমার ইরফান খান এর অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র। ইরফান খান নাম ভূমিকায় ছিলেন। আমার দেখা বলিউডের সেরা বায়োপিক চলচ্চিত্র।

১০) দ্রিশায়াম: বলিউডের অন্যতম সেরা একটি সাসপেন্স থ্রিলার। অজয় দেবগনের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র। একটি সাধারণ পরিবার কিভাবে অসাধারণ হয়ে যেতে পারে খুব ভালোভাবে দেখিয়েছে চলচ্চিত্র। ফোর্থ ক্লাস ফেইল একজন কেবল লাইন ব্যবসায়ী কিভাবে বাঘা বাঘা পুলিশ অফিসারদের টক্কর দিলেন এই মহাকাব্যের মঞ্চায়ন হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। জ্ঞান অর্জন করলে সবার সাথে যে লড়াই করা যায় সেটি বুঝিয়ে গেছে অজয় দেবগনের চরিত্র দিয়ে। এ মাস্ট ওয়াচ ফর অল দ্য থ্রিলার লাভার্স।

১১) জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা: আসলে আমরা একবারে বাচি। পৃথিবীতে আমরা একবারই আসি, বারবার আসি না। আসলে এই ছবির সবচেয়ে বড় পাওনা একটি ভাল স্ক্রিপ্ট। পাশাপাশি, জীবনকে নতুন করে দেখার বেশ কয়েকটি টিপস দিয়েছে এই ছবি। হৃতিক রোশন, ফারহান আখতার, অভয় দেওল, ক্যাটরিনা কইফ এবং কাল্কি কোয়েচলিনের অভিনয়ে সেই টিপসগুলো জীবন নিয়ে আরো একটু ভাবতে শিখিয়েছে আমাদের। প্রতিটি মানুষেরই কিছু জিনিস ভয় লাগে। কয়েকটি বিষয় নিয়ে ফোবিয়া থাকে। কিন্তু যেটা আপনি ভয় পান, যতক্ষন পর্যন্ত সেটার সম্মুখীন না হন, তাহলে বোঝা দায় যে সেটি আসলে আপনি আদৌ ভয় পান কিনা। ছবিতে তিনজনই তাদের ভয় লাগার কাজগুলি করে ভয়কে জয় করেছিলেন।

১২) হেরাফেরি: রাজু, শ্যাম আর বাবুরাম। হঠাত টেলিফোন ডাইরেক্টরির ভুলে একটা রঙ নাম্বার থেকে ফোন আসে এক কিডন্যাপারের। ব্যাস, মুহুর্তেই পালটে যায় দৃশ্যপট। কিডন্যাপারের থেকেও টাকা হাতানোর ফন্দি আঁটে তিন ভবঘুরে। সাথে মজার সব ঘটনা। আপনি যতই গুরুগম্ভীর হোন না কেন, পরেশ রাওয়াল, অক্ষয় কুমার আর সুনীল শেঠি, এই তিন সুপার কমেডিয়ানের কান্ডকীর্তি দেখে হাসতে বাধ্য হবেন। ইন্টারনেটে মিম কালচার এই চলচ্চিত্রটির অবদান অনস্বীকার্য। এই চলচ্চিত্রটি ছাড়াও ইন্টারনেটের মিম কিংবা আমার মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি জনপ্রিয় হতো না।

১৩) সিংঘাম : আমার দেখা বলিউডের সেরা মাসালা চলচ্চিত্র। অজয় দেবগনের মাস এন্ট্রি, পাশাপাশি জয়কান্ত শিকরের ভিলেনৌস এন্ট্রি সবই ছিল অনবদ্য। বাজিরাও সিঙ্গাম এবং জয়কান্ত শিকড়ের লড়াই আজীবন মনে থাকবে আমার। মারমার কাটকাট অ্যাকশন ছবির জন্য এটি আমার প্রথম পছন্দ ।

১৪) নো স্মোকিং : অনুরাগ কাশ্যপ জণ আব্রাহাম কম্বিনেশনের দুর্দান্ত অনবদ্য সাইকোলজিকাল থ্রিলার। মানুষের মগজ নিয়ে যে খেলা যায় সেটা খুব ভালোভাবে করতে পেরেছেন পরিচালক হিন্দি ছবির ইতিহাসে হয়তো এমন ছবি খুব কম নির্মাণ হয়েছে। সিগারেট ছাড়তে যে কত বিড়ম্বনা সেটাও বোঝা গেছে।

১৫) এ ওয়েডনেজ ডে: বলিউডের অন্যতম সেরা থ্রিলার চলচ্চিত্র। এইরকম টানটান উত্তেজনাময় চলচ্চিত্র খুব কম নির্মাণ হয়েছে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে। নাসিরুদ্দিন শাহ এবং অনুপম খেরের যে এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হয়েছে সেটা ছিল দারুণ উপভোগ্য। একজন সাধারন মানুষের মনের দুঃখ ব্যথা যন্ত্রণা যখন মাথার উপরে ওঠা যায় তখন এক সাধারন মানুষ হয়তো পারেন অনেক বড় সমস্যা। এটাই চলচ্চিত্রে খুব সুন্দর করে দেখিয়েছে। অত্যন্ত উপভোগ্য ও ক্লাসিক চলচ্চিত্র।

আরো কিছু চলচ্চিত্র ভাল লাগে যেমন মাদ্রাজ ক্যাফে, দাঙ্গাল, রকস্টার, ফোর্স , রানঝানা, বাজরাঙ্গি ভাইজান, দ্য লাঞ্চবক্স ইত্যাদি। আসলে হিন্দি চলচ্চিত্র আমি অনেক দেখেছি নাম বলে শেষ করা যাবে না। শুধুমাত্র দশটি চলচ্চিত্র সিলেক্ট করা অনেক কষ্টকর। আমার খসড়া জমা থাকা উত্তরগুলো শেষ করছি।

**চলচ্চিত্রের পোস্টার ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত**

ছবিসূত্র : গুগল

Post a Comment

0 Comments